এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবা করতে নির্বাচন করেছি বলছেন বান্দরবানের লামা উপজেলা পরিষদের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল।
আমি গতবার নির্বাচন করার পূর্বে এই উপজেলার মানুষের কাছে যে ওয়াদা দিয়েছিলাম উন্নয়ন কাজসহ রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য খাত, মাদকদ্রব্য ব্যবহার, বাল্য বিবাহ রোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলবো।সে অনুযায়ী কাজ করে আসছি। আর এভাবেই কাজ করে যেতে চাই। মানুষ আমাকে ভালোবেসে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত করেছে। আবার আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আমাকে সুযোগ দিলে আমার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার পাশাপাশি উন্নয়নের দ্বারা অভ্যাহৃত রাখবো।
গত বারে উপজেলা নির্বাচনে লামা উপজেলার উন্নয়ন ও নাগরিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও জনগণকে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে দৈনিক নীলগিরির সাথে কথা বলেছেন লামা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল। সাক্ষাৎকার নিয়েছে ইলিয়াছ সানি।
নীলগিরি: এলাকার উন্নয়নে কী কী কাজ করেছেন?
মোস্তফা জামাল : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর বাহাদুর উশেসিং এমপি মহোদয়ের সহোযোগিতায় আমরা লামা উপজেলাকে নির্বাচনের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার প্রায় শত ভাগ পূরণের চেষ্টা করেছি। রাস্তাঘাট, ড্রেন, পুল-কালভার্ট নির্মাণ করেছি। প্রতিটি ইউনিয়নে এবং বাজারের রাস্তা ঢালাই এবং প্রশস্ত করেছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করেছি। অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন সহ স্বাস্থ্য খাতে নাগরিক সুবিধার্থে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করেছি।
নীলগিরি : নাগরিকদের ভোগান্তির লাঘবে আপনার কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ আছে কি?
মোস্তফা জামাল : নাগরিক ভোগান্তির লাঘবের এলাকার উন্নয়নে পাশাপাশি অনন্য সকল সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নীলগিরি : সড়ক বেহাল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক; সমস্যা সমাধানে আপনার ভুমিকা কী?
মোস্তফা জামাল : আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উপজেলার অসংখ্য নতুন সড়ক, ড্রেন, ব্রিজ করা হয়েছে, বর্তমানেও অনেক প্রকল্প অনুমোদন হয়ে টেন্ডারের অপেক্ষায় আছে।
নীলগিরি : মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বন্ধে আপনার পদক্ষেপে কী?
মোস্তফা জামাল : সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি, যৌন হয়রানি বন্ধে ইউনিয়নে ইউনিয়নে সভা, সেমিনার করে জনগণকে সচেতন করছি। পুলিশ ও সেনাবাহিনী বিশেষ সহযোগিতা আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্তে কর্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
নীলগিরি : যানজট নিরসন, যত্রতত্র পার্কিং ও অবৈধ যানবাহন বন্ধে আপনার কার্যকরী ভুমিকা কি কি?
মোস্তফা জামাল : আমার উপজেলার ইউনিয়ন সমূহে যানযট নাই বললেই চলে। পৌর শহরের মেয়রকে সাথে নিয়ে যানজট নিরসন, যত্রতত্র পার্কিং ও অবৈধ যানবাহন বন্ধে সরজমিনে অভিযান পরিচালনা করি।
নীলগিরি : বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে আপনার কার্যকরী পদক্ষেপ কী কী?
মোস্তফা জামাল : আমরা ডীপ টিউবওয়েল, রিংওয়েল ও জিপিএস পাইপ লাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন পাহাড়ি গ্রাম সমূহে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি।
নীলগিরি : লোডশেডিং বন্ধ নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই, আপনার ভুমিকা কি?
মোস্তফা জামাল : লামাতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনের মাধমে বিদ্যুৎতায়ন প্রায় সমাপ্তির পথে, দুর্গম পাহাড়ী গ্রাম গুলোতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রদত্ত বিশেষ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রায় পাহাড়ি গ্রামে সৌর প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎতায়িত করা হয়েছে।
নীলগিরি : এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মোস্তফা জামাল : এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবা করতেই মূলত নির্বাচন করেছি, এবারেও করবো। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে অবহেলিত উপজেলাকে একটি আধুনিক মডেল উপজেলায় রূপ দিতে বিগত ৫ বছর যাবৎ আমার প্রিয় অভিভাবক সাবেক মন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর বাহাদুর উশেসিং এমপি মহোদয়ের সহযোগিতা ও পরামর্শে নিরলস ভাবে কাজ করেছি। আগামীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশের অংশ হিসেবে লামাকে গড়ে তোলাতে যা যা প্রয়োজন করে যাবো। আমার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজসহ রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য খাত, মাদকদ্রব্য ব্যবহার, বাল্য বিবাহ রোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলবো।