পাহাড়ের উদীয়মান কবি এম.ডি জিয়াবুল। এ পর্যন্ত তার প্রায় ৬শ কবিতা লিখে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বান্দরবান জেলা জুড়ে। তাঁর বেশ কিছু কবিতা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়েছে।
কবি জিয়াবুলের বাড়ি বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নে পাট্টাখাইয়া গ্রামে। বাবার নাম সামসুল হক ও মাতা ছকিনা খানম। তিন ভাই-বোনের মধ্যে জিয়াবুল প্রথম।
১৯৯৭ সালে তিনি ক্লাস ফাইভে পড়াকালীন তার বাবা ও ২০০২ সালে তার মা অকালে মৃত্যুবরণ করেন। টেনেটুনে কোন মতে এসএসসি পর্যন্ত পড়ে শিক্ষাজীবনের ইতি টানতে হয় তাঁর। ধরতে হয় সংসার নামক নৌকার দাঁড়। শুরু করেন চাকরি জীবন। কিন্তু সেই ছোট্ট বেলা থেকে তাঁর মনের কৌটায় বাস করতো কবি হওয়ার স্বপ্ন। জাতীয় কবি কাজী নজরুলকে সে মনে প্রাণে লালন করতেন।
জিয়াবুল বলেন, কবি নজরুল হতে না পারলেও অন্তত চেস্টা তো করতে পারি।
স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষে চাকরির পাশাপাশি সাহিত্যের উপর মনোযোগ দেওয়া শুরু করে কয়েক বছরের সাধনার মধ্যে দিয়ে জিয়াবুল থেকে হয়ে উঠে কবি জিয়াবুল।
তিনি অসংখ্য পত্র-পত্রিকাসহ বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনে লেখালেখি করেন। তার লেখা ছড়া-কবিতায় প্রাঞ্জল ভাষা ব্যবহারে প্রশংসা পায় বহু পাঠকের কাছে। তিনি ২০২০ সালে জাতীয় আর্কাইভস গ্রন্থগার অধিদপ্তরে লেখক হিসেবে নিবন্ধিত হন।
তার কাব্য চর্চায় দূর্নীতি, দ্রোহ, সমাজতান্ত্রিক, প্রতিবাদী, প্রেম-প্রকৃতি সহ জীবনমুখী কবিতায় বহু পাঠক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য কাব্য পরিষদ হতে পাঁচ দেশীয় সম্মাননা-২০২১ এবং সার্ক আট দেশীয় আন্তর্জাতিক সাহিত্য স্মারক-২০২৩।
সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য পার্বত্য কাব্য সম্মাননা-২০২৩ এবং জাগ্রত সাহিত্য পদক-২০২৩, আলোকিত প্রাঙ্গণ সাহিত্য স্মারক-২০২৩ সহ বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন হতে একাধিক সম্মাননা অর্জন করেন।
তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ‘বর্ণ সাজ পাঠক ফোরাম ও পাঠাগার’ এর (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি) এবং ‘এপার বাংলা ওপার বাংলার কবিদল’ এর বান্দরবান জেলা আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে প্রতিবাদী কলম, রূপ লাবণ্য আলীকদম, ছোটদের ছন্দে ছন্দে মজার ছড়া।
যৌথ কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কাব্যের কলতান, সাহিত্যের কুসুম জ্যোতি, নব জাগরন ও ফাল্গুন বিপ্লব।
তাছাড়াও তাঁর প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে ৫৮ পর্বের একটি উপন্যাসও।
এ ব্যাপারে কবি জিয়াবুল বলেন, এই পথচলা এতো সহজ ছিলনা। সংসারের খোরপোস জোগাড় করে লেখালেখিতে মনোযোগ দেওয়া সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। তবে আমার আগ্রহ ও চেস্টা ছিলো বেশি।