টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে পার্বত্য বান্দরবান জেলা নাইক্ষ্যছড়ি খালের বেইলী ব্রিজটি। এতে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী, দোছড়ি ইউনিয়ন সহ গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের প্রায় দুই লক্ষ মানুষ।
বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আলম কোম্পানি বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি খালের বেইলী ব্রীজটি বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়ায় আমাদের উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রায়।
অপর দিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু খালের পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে ১০ বছরের ৫ ম শ্রেনীতে পড়ুয়া ইমরান নামের এক এক শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
পাহাড় ধ্বসে প্রাণ হানির ঘটনা না ঘটলেও ২শতাধিক কাঁচা বাড়ি ঘরের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
তার মধ্যে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ শতাধিক পরিবার। স্থান ভেদে দেখা মিলেছে পাহাড় ধস।
বুধবার (৩১ জুলাই) অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতির মুখে পড়েছে নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ে ও নিম্ন অঞ্চলে বসবাসকারীরা।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নাইক্ষছড়ির ঘুমধুম ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমকূল, ক্যাম্প পাড়া, ঘোনার পাড়া, হিন্দু পাড়া, বাজার পাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কোনার পাড়া, মধ্যম পাড়াসহ ৫ গ্রাম।
দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি সংকটসহ প্রয়োজনীয় খাবার ব্যবস্থা। এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন সড়কে পাহাড় ধসের সাথে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়াতে এবং রাস্তার উপরে ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ার ফলে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। পাহাড় ধসে সর্বোচ্চ ঝুকিতে রয়েছে তুমব্রু পশ্চিমকূল গলাছিড়া নামক স্থানের পাহাড়ের উপর বসবাসরত নুরুল কবির, গোরামিয়া, বাজার পাড়ার ফরিদ আলমসহ ৫-৬টি পরিবার। নুরুল কবির বলেন, গতকাল রাত ৮টার দিকে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে রাস্তার উপরে পড়ে এবং ২য় ধাপে বাড়ির বারান্দা বরাবরই সকালের দিকে পাহাড় ধসে পড়াতে খুব বেশি আতঙ্কে দিন কাটছে।
দক্ষিণ ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হামিদুল হক বলেন, রাস্তা প্রশস্ত কালে পাহাড় থেকে মাটি নেওয়ার এ অবস্থা হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে যদি টেকসই গাইডওয়াল দেওয়া হয় পরবর্তী বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাচঁতে পারে আতঙ্কিত পরিবারগুলো।
এ বিষয়ে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একে জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন,টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া, রাস্তা, দোকান প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি অনেক স্থানে পাহাড় ধসে পড়ায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে আছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ফাইচং মারমা এই প্রতিবেদকে জানান টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি গুলো নরম হওয়ায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে এতে আমরা এখন আতঙ্কিত।
মোঃ শাহে নেওয়াজ বলেন, টানা বর্ষনে গত ২৯ জুলাই ঢলের পানিতে এক শিশু ভেসে গিয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তাছাড়া পানি কমলেও বাড়ীর উঠানে এখনো পানি রয়েছে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমদ জানান, এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে ব্রিজ টি পূর্ণ সংস্কারের আবেদন করা হয়েছে। আর পাহাড়ে বসবাসরত সকলকে সতর্ক করা হয়েছে পাহাড় ধ্বস ও পানিবন্দি স্থানগুলো পরিদর্শন করেছি আমি। ক্ষতিগ্রস্তদের আপাতত শুকনো খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে, পরবর্তীতে সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকারিয়া বলেন, পানিবন্দি মানুষের খোজ খবর নেওয়া হচ্ছে। জনসাধারণের সতর্ক করার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং করা হয়েছে। পানি কমলে ব্রীজ সচল করা হবে। তাছাড়া নিখোঁজ শিশুটির উদ্বারে তৎপরতা চলছে।
এ রিপোর্ট লিখা ও পাঠানো পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।