কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত স্বপ্নের সারথি গার্লস এডুকেশন এন্ড স্কিলস পার্টনারশিপ (জি ইএসপি ) প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে কক্সবাজার শহরের একটি অভিজাত হোটেলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সদর নির্বাহী অফিসার ফারজানা রহমান।
বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হচ্ছে কক্সবাজার। প্রাকৃতিকভাবে আকর্ষণীয় হওয়ায় আদিকাল থেকেই কক্সবাজার পর্যটকদের আকৃষ্ট করে আসছে । দীর্ঘতম সৈকত, পাহাড়-ঝরনা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজারের সম্ভাবনা যেমন, সমস্যাও অনেক যার মধ্যে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, মানসম্মত শিক্ষার সীমি ত সুযোগ এবং চাকরিযোগ্য দক্ষতার যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব কক্সবাজারের দারিদ্র্য ও বৈষম্যের চক্রকে দীর্ঘস্থায়ী করে , যার প্রধান শিকার অত্র এলাকার কিশোরী এবং যুবতীরা। জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট মলূত অত্র প্রতিবন্ধকতা গুলোকে দরূীকরণের উদ্দেশ্য স্বপ্নের সারথি – জি ইএসপ প্রকল্পটি ডি জাইন করেছে , যেখানে জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্যকে নিরসন করে নারী ক্ষমতায়নে র প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করা
হবে। প্রকল্পটি ফরেন কমনওয়ে লথ এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (অফ সি ডি ও) এর অর্থায়ন এবং জেনারেশন আনলিমিটেড, ইউনিসেফ এর সহযোগি তায় জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত।
জি ইএসপ প্রকল্পটি কক্সবাজার এলাকায় ১৭০০ জন কিশোরী ও যুবতী মেযেদের স্থানীয় শিল্পে র চাহিদার উপর ভিত্তি করে প্রযুক্তি গত এবং কারিগরি দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করবে যার মধ্যে খাদ্য ও পানীয় শিল্প, কম্পিউটার ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা এবং রিটেল সেলস উল্ল্যেখযোগ্য। এছাড়াও ৩০০০ তরুণী ও যুবতী পাসপোর্টটু আনিং (P2E) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টুয়েন্টি ফাস্ট সেঞ্চুরি সফ্ট স্কিলস এর উপর দক্ষতা লাভ করবেন। উক্ত লক্ষ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারে স্বপ্নের সারথি- গার্লস এডুকেশন এন্ড স্কিলস পার্টনারশিপ (জি ইএসপি ) প্রকল্পের অবহিতকরণ অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নরুল আবসার, ইউনিসেফ এর প্রতিনিধি মারিয়ান ওয়ে লার্স এবং নাটালি ম্যাককলি, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মো.মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, আরো গণ্যমান্য
ব্যক্তিবর্গ। সভায় উপস্থিত সকল সম্মানিত অতিথিবন্দৃ নিজেদর মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করার মাধ্যমে সভার মূললক্ষ্য।
কক্সবাজার সরকারী টেকনি ক্যালস্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল তপন কুমার ঘোষ বলেন প্রকল্পটি পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি পিছিয়ে পড়া কিশোরী এবং তরুণীদে র যথাযথ অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করতে হবে যাতে প্রত্যেকেই এই প্রকল্পটি থেকে আশানুরূপ সুবিধাভোগ করতে পারে ।
তিনি কক্সবাজারের মেয়েদের উন্নয়নে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এবং ইউনিসেফের প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ, জেনারেশন আনলিমিটেড এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারিয়ান ওয়েলার্স “জি ইএসপি ” প্রকল্পটি পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন প্রকল্পটি স্থানীয় শিল্পে র চাহিদা অনসুারে কিশোরী এবং তরুণীদের
দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করবে এবং প্রকল্পটি বিনামল্যেূল্যে সহজলভ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পাসপোর্ট টুআর্নিং” এর মাধ্যমে যুবক-যুবতীদের চাকরিযোগ্য দক্ষতার প্রশিক্ষণ প্রদান করবে
এছাড়াও কারি গরি দক্ষতা প্রদানে রক্ষেত্রে সরকারি সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে স্বপ্নের সারথি প্রকল্প যে লক্ষ্যমাত্রায় ১৫-২৪ বছর বয়সি নটইন এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট, এন্ড ট্রেনিং বা নিট জনগোষ্ঠী নিয়ে দক্ষতা উন্নয়নমলূক যে সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে সেই বিষয়টিতে সকলেই সমর্থন জানিয়েছেন।
উক্ত সভায় বক্তারা এই প্রকল্পে র কার্যক্রমকে অত্যন্ত সময়পয়োগী এবং দরিদ্রতা ও বৈষম্য দরূীকরণের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মতামত প্রদান করেন। স্বপ্নের সারথি প্রকল্পটি কিশোরী ও যুবতী মহিলাদের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে ।
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্উন্ডেশন ট্রাস্ট একটি বে সরকারি উন্নয়ন সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, মানবাধি কার, যুব সমাজ উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ জলবায়ুপরি পরিবর্তন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করছে । জাগো ফাউন্ডেশন, যুব সমাজ দ্বারা পরিচালি ত অলাভজনক একটি শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওযার পর থেকে সুবিধাবঞ্চি শিশুদের বিনা মল্যেূল্যে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে আসছে । জাগোফাউন্ডেশনের প্রধান লক্ষ্য সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের মলূধারার সাথে যুক্ত করে এই সমস্ত শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিৎ করার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করা।